Beginner

Chapter:6 history

  • 1

অপারেশন বারবারোসা বলতে কী বোঝো?

(5 marks question)

2 Answers

  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে হিটলার উত্তর ইউরোপ ও ফ্রান্সসহ উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের রাষ্ট্র গুলো কে পদানত করে পূর্ব ইউরোপে ও জার্মানির আধিপত্য স্থাপনে উদ্যোগী হন এবং রুশ জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি অস্বীকার করে 1941 খ্রিস্টাব্দে সোভিয়েত রাশিয়া আক্রমণ করেন। এই অভিযান অপারেশন বারবারোসা নামে পরিচিত।

    হিটলার কর্তৃক রাশিয়া আক্রমণের কারণ :-

    ১.পশ্চিম রণাঙ্গন অনুকূল যুদ্ধ:- পশ্চিম রণাঙ্গন এর যুদ্ধ জার্মানির অনুকূলে এলে হিটলার রাশিয়া আক্রমণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    ২.রাশিয়ার অস্ত্রসজ্জা:- ইতিমধ্যে রাশিয়া কর্তৃক রুমানিয়া ও তিনটি বাল্টিক রাজ্য জয় এবং রাশিয়ার অস্ত্রসজ্জা দেখে জার্মানির হিটলার আতঙ্কিত হয়েছিলেন এবং অন্যদিকে বুলগেরিয়া এবং যুগোস্লোভিয়া দখল করার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া ও আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। এভাবে জার্মানি ও রাশিয়া উভয় এর মধ্যেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং এই পরিস্থিতিতে হিটলার রাশিয়া কর্তৃক আক্রান্ত হবার আগেই রাশিয়া আক্রমণ করতে অগ্রসর হন।

    ৩.পূর্ব ইউরোপে জার্মান আধিপত্য প্রতিষ্ঠা:- ঐতিহাসিকদের মতে হিটলার পূর্ব ইউরোপে জার্মান আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়ে ছিলেন এবং এ কারণে রাশিয়া আক্রমন ছিল অনিবার্য।

    ৪.খাদ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের আকর্ষণ:- হিটলার রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ করে ইউক্রেনের গম ভান্ডার এবং বাকুল পেট্রোলিয়াম খনি গুলি হস্তগত করতে চেয়ে ছিলেন।

    ৫.কূটনৈতিক কারণ:-হিটলার রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ করে ইংল্যান্ডের হিটলার বিরোধিতার তীব্রতা কাজ করতে চেয়ে ছিলেন।

    এই অভিযানের ক্ষেত্রে ত্রিমুখী আক্রমণ পরিচালিত হয়েছিল এবং একটি লেলিনগ্রাড এদিকে অপর দুটি মস্কো
    ও স্ট্যালিনগ্রাডের দিকে যায়। হিটলারের রাশিয়া অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল লেলিনগ্রাড অবরোধ।

    • 4
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি অধ্যায় পূর্ব ফ্রন্টের যুদ্ধ বা জার্মানীর রাশিয়া আক্রমণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকেই নাৎসিদের সাথে সোভিয়েতদের সম্পর্ক মোটেই ভালো ছিল না। ১৯৩৯ এর পোল্যান্ড আক্রমণেরমাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।সেই সময় নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে সোভিয়েতরাও পোল্যান্ডের বেশ কিছু অংশ নিজেদের দখলে নিয়ে আসে।জার্মানীর পৃথিবী জয়ের অভিযান যতই অগ্রসর হতে থাকে ততই সোভিয়েতরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হতে থাকে। সেই সাথে জার্মানীর ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতাও সবার মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষৎ আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য সোভিয়েত কতৃপক্ষ প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সেই সময়টায় হিটলার ব্রিটেনকে কাবু করার চেষ্টায় রত ছিলেন। আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়নকে যুদ্ধের টেনে আনার জন্য ইংরেজদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার জন্য হিটলার রাশিয়ার সাথে একটা চুক্তিতে আসার চেষ্টা করে। তারা চেয়েছিল সোভিয়েতরাও তাদের ত্রিদলীয় সংগঠনে যোগদান করুক। কিন্তু উক্ত সংগঠনে ঢোকার জন্য সোভিয়েত কতৃপক্ষ শর্ত দিয়ে বসল যে, সংগঠন থেকে ফিনল্যান্ড, বুলগেরিয়া, তুরস্ক এবং জাপানকে সংগঠন থেকে বের করে দিতে হবে। হিটলার স্বাভাবিকভাবেই উক্ত শর্ত মানল না। সোভিয়েতের সাথে চুক্তিও বাতিল হয়ে গেল এবং হিটলার সাথে সাথেই রাশিয়া হামলা করার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আদেশ প্রদান করে। ১৯৩৯ সালে অবশ্য রাশিয়া এবং জার্মানি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলো। তারপরও দুইপক্ষের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস প্রচন্ডভাবে বিরাজ করছিলো। পরবর্তীতে তা যুদ্ধের রূপ ধারণ করে।

    ১৯৪১ সালর ২২ জুন হিটলার অপারেশন বারবারোসা (German: Fall Barbarossa, literally “Case Barbarossa”) নামে পরিচিত সোভিয়েত রাশিয়া অভিযান শুরু করেছিলেন। এই অভিযানে উনিশটি প্যানযার ডিভিশন, ৩ হাজার ট্যাংক, ২৫০০ বিমান এবং ৭০০০ কামান অংশ গ্রহণ করে। সর্বমোট ত্রিশ লক্ষ সৈনিক সাথে ৬ লক্ষ মোটরযান এবং ৬-৭ লক্ষ ঘোড়া ব্যবহার হয়েছিল এই অভি্যানে।

    ১৯৪১ সালের ২২ জুন ভোর ৪টায় প্রথম জার্মান ট্যাংক সোভিয়েত সীমান্তে প্রবেশ করে। আক্রমণের প্রথম দিনেই জার্মান বিমান বাহিনী ১ হাজার সোভিয়েত বিমান ধ্বংস করে দেয়। সোভিয়েত বাহিনীর প্রতিরোধ সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে জার্মান বাহিনী রাশিয়ার ৩০০ মাইল ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা সোভিয়েত ভূখণ্ডের বিস্তির্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর মস্কো দখলের কাছাকাছি পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। নাৎসী বাহিনী কয়েক মাসের মধ্যে কিয়েভ ও রস্তুভ-অন-ডনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগরী দখল করে নেয়। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, আর তা হলো, অপারেশন বারবারোসা শুরুর ঠিক ১২৯ বছর ১ দিন আগে নেপোলিয়ন বোনপার্ট রাশিয়া আক্রমণ করেছিলেন। তিনি এই অভিযানে সফল হতে পারেন নি একই ভাবে হিটলারের রাশিয়া অভিযানও ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছিলো।শীতকালে নাৎসী বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ঘটে। একদল বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ভোর ৪ টায় ক্রেমলিন ওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

    • 1

You must login to add an answer.