1. নরুদন লবন পানীয় বা ওরাল ডিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) দিবস প্রতি বছর ২৯ জুলাই পালিত হয়। কম খরচে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার এ এক উত্তম পদ্ধতি। শিশুদের একটানা জটিল ডায়রিয়া শিশু মৃত্যুর এক বড় কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের মৃত্যুর এক বড় কারণ। খারাপ স্বাস্থ্যবিধি ও নিম্ন মানের শৌচ ব্Read more

    নরুদন লবন পানীয় বা ওরাল ডিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) দিবস প্রতি বছর ২৯ জুলাই পালিত হয়। কম খরচে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার এ এক উত্তম পদ্ধতি। শিশুদের একটানা জটিল ডায়রিয়া শিশু মৃত্যুর এক বড় কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের মৃত্যুর এক বড় কারণ। খারাপ স্বাস্থ্যবিধি ও নিম্ন মানের শৌচ ব্যবস্থার ফলে সাধারণত ডায়রিয়া হয়ে থাকে এবং এর ফলে শরীরে জলের ঘাটতি ঘটে। ডায়রিয়ার প্রকোপ শিশু ও বয়স্ক/বয়স্কদের মধ্যে অধিক দেখা যায়। ডায়রিয়া থেকে সেরে ওঠার একটি বড় উপায় হল শরীরে পর্যাপ্ত তরলের সরবরাহ, এবং সেইজন্য প্রয়োজন ও আর এসের। ওআরএসে থাকে পরিমাণ মত বিভিন্ন ধরণের লবন (ইলেক্ট্রোসাইটস) ও শর্করার সংমিশ্রণ। ওআরএস জোডি (ওআরএস এবং জিঙ্ক) ডিহাইড্রেশন ও ডায়রিয়াতে যথেষ্ট উপকারী এবং এটি পরীক্ষালব্ধ সত্য। ওআরএস স্যাচেট আকারে বাজারে পাওয়া যায়, তাছাড়া বাড়িতেও সঠিক উপায়ে ও আর এস বানানো যায়।

    আমাদের সবার যা জানা প্রয়োজন :

    কীভাবে পাউডার আকারে পাওয়া ওআরএস বানানো উচিত ?

    ১. পরিষ্কার পাত্রে প্যাকেট থেকে ওআরএসের পাউডার নিন। পাউডারের প্যাকেটে লেখা নির্দেশ মানুন এবং নির্দেশিত পরিমাণে শোধিত জল মেশান । কম পরিমাণ জল মেশালে তা ডায়রিয়ার জন্য খুব খারাপ হতে পারে।

    ২. শুধুমাত্র বিশুদ্ধ জলই মেশান, জলের পরিবর্তে দুধ বা ফলের জুস্ বা অন্য কোনো তরল মেশাবেন না।

    ৩. জল মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। শিশুকে কাপে করে ও আর এস পান , কোরান বোতল ব্যবহার করবেন না।

    ঘরে কীভাবে ও আর এস বানাবেন?

    হাতের কাছে ওআরএসের প্যাকেট না পেলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ওআরএস বানাতে পারেন।

    পরিষ্কার জল- ১ লিটার- ৫ কাপ (প্রতি কাপ ২০০ মিলি।)

    চিনি – ৬ চামচ (১ চামচ= ৫ গ্রাম)

    লবন- আধ চামচ

    চিনি ও লবন গুলতে ভালো করে চামচ দিয়ে নাড়ুন।

    বাড়িতে সহজে ওআরএস বানানো যায় ও তা রিহাইড্রেশনে খুব উপকারী। শুধুমাত্র লক্ষ্য রাখবেন পরিমাণ ঠিক আছে কিনা। অতিরিক্ত চিনির পরিমাণ ডায়রিয়াকে আরো খারাপ করে দিতে পারে ও অতিরিক্ত লবন শিশুর ক্ষতি করতে পারে।

    ওআরএসের মিশ্রণ কি সঞ্চয় করে রাখা যায়? ওআরএসের মিশ্রণ সবসময় ঢাকা দিয়ে রাখা উচিত এবং ২৪ ঘন্টার বেশি সঞ্চয় করে রাখা উচিত নয়।

    সবার জন্য কি ওআরএসের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে?

    যেকেউ ডায়রিয়াতে ভুগলে ওআরএসের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। ডাক্তারের চিকিৎসা শুরুর আগেও রোগীকে ওআরএসের মিশ্রণ দেওয়া যেতে পারে। ওআরএসের মিশ্রণ বানানোর এইজ জল ফুটিয়ে তারপর তা ঠান্ডা করুন।

    নোংরা বা অপরিষ্কার জলে ওআরএসের মিশ্রণ বানালে কী সমস্যা হতে পারে?

    এতে ওআরএসের কোনো উপকার পাওয়া যাবে না ও হিতে বিপরীত হতে পারে। জল গরম করার পরিস্থিতি না থাকলে অন্তত পক্ষে ফিল্টার করা জল ব্যবহার করুন।

    See less
    • 0
  2. নিউক্লিক অ্যাসিড।

    নিউক্লিক অ্যাসিড।

    See less
    • 2
  3. কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল ! নতুন মেসোমশাই, মানে যাঁর সঙ্গে এই কদিন আগে তপনের ছোটোমাসির বিয়ে হয়ে গেল দেদার ঘটাপটা করে, সেই তিনি নাকি বই লেখেন । সে সব বই নাকি ছাপাও হয় । অনেক বই ছাপা হয়েছে মেসোর । তার মানে —তপনের নতুন মেসোমশাই একজন লেখক । সত্যিকার লেখক । জলজ্যান্ত একজন লেখককে এত কাছ থেRead more

    কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল !

    নতুন মেসোমশাই, মানে যাঁর সঙ্গে এই কদিন আগে তপনের ছোটোমাসির বিয়ে হয়ে গেল দেদার ঘটাপটা করে, সেই তিনি নাকি বই লেখেন । সে সব বই নাকি ছাপাও হয় । অনেক বই ছাপা হয়েছে মেসোর ।

    তার মানে —তপনের নতুন মেসোমশাই একজন লেখক । সত্যিকার লেখক ।

    জলজ্যান্ত একজন লেখককে এত কাছ থেকে কখনো দেখেনি তপন, দেখা যায়, তাই জানতো না । লেখকরা যে তপনের বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতো মানুষ, এবিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের ।

    কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের ।

    আশ্চর্য, কোথাও কিছু উলটোপালটা নেই, অন্য রকম নেই, একেবারে নিছক মানুষ ! সেই ওঁদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, খেতে বসেই ‘আরে ব্যস, এত কখনো খাওয়া যায় ?’ বলে অর্ধেক তুলিয়ে দেন, চানের সময় চান করেন এবং ঘুমের সময় ঘুমোন ।

    তাছাড়া—

    ঠিক ছোটো মামাদের মতোই খবরের কাগজের সব কথা নিয়ে প্রবলভাবে গল্প করেন, তর্ক করেন, আর শেষ পর্যন্ত ‘এ দেশের কিচ্ছু হবে না’ বলে সিনেমা দেখতে চলে যান, কী বেড়াতে বেরোন সেজেগুজে ।

    মামার বাড়িতে এই বিয়ে উপলক্ষেই এসেছে তপন, আর ছুটি আছে বলেই রয়ে গেছে । ওদিকে মেসোরও না কী গরমের ছুটি চলছে । তাই মেসো শ্বশুরবাড়িতে এসে রয়েছেন কদিন। তাই অহরহই জলজ্যান্ত একজন লেখককে দেখবার সুযোগ হবেই তপনের । আর সেই সুযোগেই দেখতে পাচ্ছে তপন, ‘লেখক’ মানে কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব নয়, তপনদের মতোই মানুষ ।

    তবে তপনেরই বা লেখক হতে বাধা কী ?

    মেসোমশাই কলেজের প্রফেসার, এখন ছুটি চলছে তাই সেই সুযোগে শ্বশুরবাড়িতেই রয়ে গেছেন কদিন । আর সেই সুযোগেই দিব্যি একখানি দিবানিদ্রা দিচ্ছিলেন । ছোটোমাসি সেই দিকে ধাবিত হয় ।

    তপন অবশ্য ‘না আ-আ-‘ করে প্রবল আপত্তি তোলে, কিন্তু কে শোনে তার কথা ?

    ততক্ষণে তো গল্প ছোটোমেসোর হাতে চলেই গেছে । হইচই করে দিয়ে দিয়েছে ছোটোমাসি তাঁর ঘুম ভাঙিয়ে ।

    তখন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয় ।

    মুখে আঁ আঁ করলেও হয় ।

    কারণ লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝলে নতুন মেসোই বুঝবে । রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই ।

    একটু পরেই ছোটোমেসো ডেকে পাঠান তপনকে এবং বোধকরি নতুন বিয়ের শ্বশুরবাড়ির ছেলেকে খুশি করতেই বলে ওঠেন, ‘তপন, তোমার গল্প তো দিব্যি হয়েছে । একটু ‘কারেকশান’ করে ইয়ে করে দিলে ছাপতে দেওয়া চলে ।’

    তপন প্রথমটা ভাবে ঠাট্টা, কিন্তু যখন দেখে মেসোর মুখে করুণার ছাপ, তখন আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায় ।

    ‘তা হলে বাপু তুমি ওর গল্পটা ছাপিয়ে দিও— মাসি বলে, ‘মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা ।’

    মেসো তেমনি করুণার মূর্তিতে বলেন, ‘তা দেওয়া যায় ! আমি বললে ‘সন্ধ্যাতারার’ সম্পাদক ‘না’ করতে পারবে না । ঠিক আছে; তপন, তোমার গল্প আমি ছাপিয়ে দেবো ।’

    বিকেলে চায়ের টেবিলে ওঠে কথাটা ।

    আর সবাই তপনের গল্প শুনে হাসে । কিন্তু মেসো বলেন,’ না -না আমি বলছি— তপনের হাত আছে । চোখও আছে । নচেৎ এই বয়সের ছেলেমেয়েরা গল্প লিখতে গেলেই তো— হয় রাজারানির গল্প লেখে, নয় তো— খুন জখম অ্যাকসিডেন্ট, অথবা না খেতে পেয়ে মরে যাওয়া, এইসব মালমশলা নিয়ে বসে । তপন যে সেই দিকে যায়নি, শুধু ওর ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির বিষয় নিয়ে লিখেছে, এটা খুব ভালো । ওর হবে ।’

    তপন বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকায় ।

    তারপর ছুটি ফুরোলে মেসো গল্পটি নিয়ে চলে গেলেন । তপন কৃতার্থ হয়ে বসে বসে দিন গোনে ।

    এই কথাটাই ভাবছে তপন রাত-দিন । ছেলেবেলা থেকেই তো রাশি রাশি গল্প শুনেছে তপন আর এখন বস্তা বস্তা পড়ছে, কাজেই গল্প জিনিসটা যে কী সেটা জানতে তো বাকি নেই ?

    শুধু এইটাই জানা ছিল না, সেটা এমনই সহজ মানুষেই লিখতে পারে । নতুন মেসোকে দেখে জানল সেটা ।

    তবে আর পায় কে তপনকে ?

    দুপুরবেলা, সবাই যখন নিথর নিথর, তখন তপন আস্তে একটি খাতা ( হোম টাস্কের খাতা আর কী ! বিয়ে বাড়িতেও যেটি মা না আনিয়ে ছাড়েননি ।) আর কলমটি নিয়ে তিনতলার সিঁড়িতে উঠে গেল, আর তোমরা বিশ্বাস করবে কিনা জানি না, একাসনে বসে লিখেও ফেলল আস্ত একটা গল্প ।

    লেখার পর যখন পড়ল, গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের, মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল ।

    একী ব্যাপার !

    এ যে সত্যিই হুবহু গল্পের মতোই লাগছে ! তার মানে সত্যিই একটা গল্প লিখে ফেলেছে তপন । তার মানে তপনকে এখন ‘লেখক’ বলা চলে ।

    হঠাৎ ভয়ানক একটা উত্তেজনা অনুভব করে তপন, আর দুদ্দাড়িয়ে নীচে নেমে এসে—ছোটোমাসিকেই বলে বসে, ‘ছোটোমাসি, একটা গল্প লিখেছি ।’

    ছোটোমাসিই ওর চিরকালের বন্ধু, বয়সে বছর আষ্টেকের বড়ো হলেও সমবয়সি, কাজেই মামার বাড়ি এলে সব কিছুই ছোটোমাসির কাছে । তাই এই ভয়ানক আনন্দের খবরটা ছোটোমাসিকে সর্বাগ্রে দিয়ে বসে ।

    তবে বিয়ে হয়ে ছোটোমাসি যেন একটু মুরুব্বি মুরুব্বি হয়ে গেছে, তাই গল্পটা সবটা না পড়েই একটু চোখ বুলিয়েই বেশ পিঠ চাপড়ানো সুরে বলে, ‘ওমা এ তো বেশ লিখেছিস রে ? কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো ?

    ‘আঃ ছোটোমাসি, ভালো হবে না বলছি ।’

    ‘আরে বাবা খেপছিস কেন ? জিজ্ঞেস করছি বই তো নয় ! রোস তোর মেসোমশাইকে দেখাই— ।’

    কিন্তু গেলেন তো— গেলেনই যে ।

    কোথায় গল্পের সেই আঁটসাঁট ছাপার অক্ষরে গাঁথা চেহারাটি ? যার জন্যে হাঁ করে আছে তপন ? মামার বাড়ি থেকে বাড়িতে চলে এসেও ।

    এদিকে বাড়িতে তপনের নাম হয়ে গেছে, কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী । আর উঠতে বসতে ঠাট্টা করছে ‘তোর্ হবে । হাঁ বাবা তোর হবে ।’

    তবু এইসব ঠাট্টা-তামাশার মধ্যেই তপন আরো দু’তিনটে গল্প লিখে ফেলেছে । ছুটি ফুরিয়ে এসেছে, হোম টাস্ক হয়ে ওঠেনি, তবু লিখছে । লুকিয়ে লিখছে । যেন নেশায় পেয়েছে ।

    তারপর ছুটি ফুরোল, রীতিমতো পড়া শুরু হয়েছে । প্রথম গল্পটি সম্পর্কে একেবারে আশা ছাড়া হয়ে গেছে, বিষন্ন মন নিয়ে বসে আছে এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা ।

    ছোটোমাসি আর মেসো একদিন বেড়াতে এল, হাতে এক সংখ্যা ‘সন্ধ্যাতারা’ ।

    কেন ? হেতু ? ‘সন্ধ্যাতারা’ নিয়ে কেন ?

    বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের ।

    তবে কী ? সত্যিই তাই ? সত্যিই তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনটি এল আজ ?

    কিন্তু তাই কী সম্ভব ? সত্যিকার ছাপার অক্ষরে তপন কুমার রায়ের লেখা গল্প, হাজার-হাজার ছেলের হাতে হাতে ঘুরবে ?

    পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে ?

    তা ঘটেছে, সত্যিই ঘটেছে ।

    সূচিপত্রেও নাম রয়েছে ।

    ‘প্রথম দিন’ (গল্প) শ্রীতপন কুমার রায় ।

    সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়, তপনের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হয়েছে । ওর লেখক মেসো ছাপিয়ে দিয়েছে ! পত্রিকাটি সকলের হাতে হাতে ঘোরে, সকলেই একবার করে চোখ বোলায় আর বলে, ‘বারে, চমৎকার লিখেছে তো ।’

    মেসো অবশ্য মৃদু হাসেন, বলেন, ‘একট-আধটু ‘কারেকশান’ করতে হয়েছে অবশ্য । নেহাত কাঁচা তো ?’

    মাসি বলে, ‘তা হোক, নতুন নতুন অমন হয়—’

    ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে ।

    ওই কারেকশানের কথা ।

    বাবা বলেন, ‘তাই । তা নইলে ফট করে একটা লিখল, আর ছাপা হলো,—’

    মেজোকাকু বলেন, ‘তা ওরকম একটি লেখক মেসো থাকা মন্দ নয় । আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম । ‘

    See less
    • 1
  4. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি অধ্যায় পূর্ব ফ্রন্টের যুদ্ধ বা জার্মানীর রাশিয়া আক্রমণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকেই নাৎসিদের সাথে সোভিয়েতদের সম্পর্ক মোটেই ভালো ছিল না। ১৯৩৯ এর পোল্যান্ড আক্রমণেরমাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।সেই সময় নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে সোভিয়েতRead more

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি অধ্যায় পূর্ব ফ্রন্টের যুদ্ধ বা জার্মানীর রাশিয়া আক্রমণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকেই নাৎসিদের সাথে সোভিয়েতদের সম্পর্ক মোটেই ভালো ছিল না। ১৯৩৯ এর পোল্যান্ড আক্রমণেরমাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।সেই সময় নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে সোভিয়েতরাও পোল্যান্ডের বেশ কিছু অংশ নিজেদের দখলে নিয়ে আসে।জার্মানীর পৃথিবী জয়ের অভিযান যতই অগ্রসর হতে থাকে ততই সোভিয়েতরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হতে থাকে। সেই সাথে জার্মানীর ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতাও সবার মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষৎ আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য সোভিয়েত কতৃপক্ষ প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সেই সময়টায় হিটলার ব্রিটেনকে কাবু করার চেষ্টায় রত ছিলেন। আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়নকে যুদ্ধের টেনে আনার জন্য ইংরেজদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার জন্য হিটলার রাশিয়ার সাথে একটা চুক্তিতে আসার চেষ্টা করে। তারা চেয়েছিল সোভিয়েতরাও তাদের ত্রিদলীয় সংগঠনে যোগদান করুক। কিন্তু উক্ত সংগঠনে ঢোকার জন্য সোভিয়েত কতৃপক্ষ শর্ত দিয়ে বসল যে, সংগঠন থেকে ফিনল্যান্ড, বুলগেরিয়া, তুরস্ক এবং জাপানকে সংগঠন থেকে বের করে দিতে হবে। হিটলার স্বাভাবিকভাবেই উক্ত শর্ত মানল না। সোভিয়েতের সাথে চুক্তিও বাতিল হয়ে গেল এবং হিটলার সাথে সাথেই রাশিয়া হামলা করার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আদেশ প্রদান করে। ১৯৩৯ সালে অবশ্য রাশিয়া এবং জার্মানি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলো। তারপরও দুইপক্ষের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস প্রচন্ডভাবে বিরাজ করছিলো। পরবর্তীতে তা যুদ্ধের রূপ ধারণ করে।

    ১৯৪১ সালর ২২ জুন হিটলার অপারেশন বারবারোসা (German: Fall Barbarossa, literally “Case Barbarossa”) নামে পরিচিত সোভিয়েত রাশিয়া অভিযান শুরু করেছিলেন। এই অভিযানে উনিশটি প্যানযার ডিভিশন, ৩ হাজার ট্যাংক, ২৫০০ বিমান এবং ৭০০০ কামান অংশ গ্রহণ করে। সর্বমোট ত্রিশ লক্ষ সৈনিক সাথে ৬ লক্ষ মোটরযান এবং ৬-৭ লক্ষ ঘোড়া ব্যবহার হয়েছিল এই অভি্যানে।

    ১৯৪১ সালের ২২ জুন ভোর ৪টায় প্রথম জার্মান ট্যাংক সোভিয়েত সীমান্তে প্রবেশ করে। আক্রমণের প্রথম দিনেই জার্মান বিমান বাহিনী ১ হাজার সোভিয়েত বিমান ধ্বংস করে দেয়। সোভিয়েত বাহিনীর প্রতিরোধ সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে জার্মান বাহিনী রাশিয়ার ৩০০ মাইল ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা সোভিয়েত ভূখণ্ডের বিস্তির্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর মস্কো দখলের কাছাকাছি পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। নাৎসী বাহিনী কয়েক মাসের মধ্যে কিয়েভ ও রস্তুভ-অন-ডনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগরী দখল করে নেয়। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, আর তা হলো, অপারেশন বারবারোসা শুরুর ঠিক ১২৯ বছর ১ দিন আগে নেপোলিয়ন বোনপার্ট রাশিয়া আক্রমণ করেছিলেন। তিনি এই অভিযানে সফল হতে পারেন নি একই ভাবে হিটলারের রাশিয়া অভিযানও ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছিলো।শীতকালে নাৎসী বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ঘটে। একদল বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ভোর ৪ টায় ক্রেমলিন ওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

    See less
    • 1
  5. গ্রিড বিকল হয়ে যাওয়াতেই গোটা দেশজুড়ে নজিরবিহীন বিদ্যুত্‍ বিপর্যয় দেখা দেয়। কিন্তু কী এই গ্রিড? গ্রিড হল সেই সংযোগকারী নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদনকারী কেন্দ্র থেকে বন্টন কেন্দ্রে বিদ্যুত্‍ সরবরাহ করা হয়। অর্থাত্‍ গ্রিডের একদিকে থাকে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদন কেন্দ্র এবং অন্যদিকে বিদ্যুত্‍ বন্টRead more

    গ্রিড বিকল হয়ে যাওয়াতেই গোটা দেশজুড়ে নজিরবিহীন বিদ্যুত্‍ বিপর্যয় দেখা দেয়। কিন্তু কী এই গ্রিড? গ্রিড হল সেই সংযোগকারী নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদনকারী কেন্দ্র থেকে বন্টন কেন্দ্রে বিদ্যুত্‍ সরবরাহ করা হয়। অর্থাত্‍ গ্রিডের একদিকে থাকে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদন কেন্দ্র এবং অন্যদিকে বিদ্যুত্‍ বন্টন সংস্থা। বিদ্যুত্‍ উত্‍পন্ন হওয়ার পর ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে তা সাব-স্টেশনে যায়। সেখান থেকে বিদ্যুত্‍ নিয়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয় বিদ্যুত্‍ বন্টন সংস্থা। আর এই গোটা প্রক্রিয়াটাই হয় গ্রিডের মাধ্যমে।
    সেই কারণেই গ্রিড বিকল হয়ে পড়ায় ভেঙে পড়েছে বিদ্যুত্‍ সরবরাহের পুরো ব্যবস্থা। কোনও রাজ্যে বিদ্যুত্ উদ্বৃত্ত হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য তা গ্রিডে দিয়ে দেয়। গ্রিডের মাধ্যমেই সেই বাড়তি বিদ্যুত্‍ চলে যায় এমন রাজ্যে যেখানে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। গ্রিড বিকল হওয়ায় সেই ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ফলে আঁধার নেমে এসেছে দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। প্রাথমিকভাবে তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্রগুলি টার্বাইন ঘোরানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্‍ নেয় গ্রিডের কাছ থেকেই। সেকারণে গ্রিড বিকল হয়ে পড়ায় তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্রগুলির উত্‍পাদনও ধাক্কা খেয়েছে।
    মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ নর্দার্ন পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে ইস্টার্ন পাওয়ার গ্রিড`ও বিকল হয়ে যায়। ফলে পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ রাজস্থান-সহ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অসম সমেত মোট ১৯টি রাজ্যের বিদ্যুত্‍ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে এই প্রথম দেশের ৫ টি পাওয়ার গ্রিডের মধ্যে ৩ টিই বিকল হওয়ার মত ঘটনা ঘটল।

    See less
    • 0
  6. ধন্যবাদ Aditya অনেক ধন্যবাদ। You are a genius.

    ধন্যবাদ Aditya অনেক ধন্যবাদ। You are a genius.

    See less
    • 0
  7. Best Answer

    কপার সালফেটের জলীয় দ্রবণের তড়িৎবিশ্লেষণ :- CuSO4 জলে আয়নিত হয়ে Cu2+ এবং SO42- আয়ন উত্পন্ন করে । সুতরাং, জলীয় দ্রবণে চার প্রকার আয়ন থাকে, দুধরনের ক্যাটায়ান H+ ও Cu2+ এবং দু ধরনের অ্যানায়ন OH- ও SO42- । H2O⇌H++OH− ; CuSO4⇌Cu2++SO2−4 এইরূপ দ্রবণের তড়িৎবিশ্লেষণে উত্পন্ন পদার্থ, ব্যবহৃত তড়িদ্দ্বারের ওপরRead more

    কপার সালফেটের জলীয় দ্রবণের তড়িৎবিশ্লেষণ :- CuSO4 জলে আয়নিত হয়ে Cu2+ এবং SO42- আয়ন উত্পন্ন করে । সুতরাং, জলীয় দ্রবণে চার প্রকার আয়ন থাকে, দুধরনের ক্যাটায়ান H+ ও Cu2+ এবং দু ধরনের অ্যানায়ন OH- ও SO42- ।

    H2O⇌H++OH− ; CuSO4⇌Cu2++SO2−4
    এইরূপ দ্রবণের তড়িৎবিশ্লেষণে উত্পন্ন পদার্থ, ব্যবহৃত তড়িদ্দ্বারের ওপর নির্ভর করে, যথা—

    [ক] প্ল্যাটিনাম তড়িদ্দ্বার ব্যবহার করলে, ক্যাথোডে H+ আয়ন মুক্ত না হয়ে Cu2+ আয়ন মুক্ত হবে, কারণ H+ আয়ন অপেক্ষা Cu2+ আয়নের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা বেশি (বিজারণ বিভব বেশি) এবং অ্যানোডে SO42= আয়নImage removed. মুক্ত না হয়ে OH- আয়ন মুক্ত হবে । অর্থাৎ ক্যাথোডে ধাতব Cu এবং অ্যানোডে O2 গ্যাস উত্পন্ন হয় ।

    বিক্রিয়া : ক্যাথোডে: Cu2+ + 2e → 2Cu↓

    অ্যানোডে: OH- – e → [OH] ; 4[OH] = 2H2O + O2↑

    [খ] কপার তড়িদ্দ্বার ব্যবহার করলে, Cu2+ আয়ন ক্যাথোডে গিয়ে ক্যাথোড থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং ধাতব Cu ক্যাথোডে সঞ্চিত হয়ে ক্যাথোডের ওজন বৃদ্ধি করে । SO42- আয়ন অ্যানোডে যায় কিন্তু সেখানে মুক্ত হয় না । অ্যানোডের কপার পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করে Cu2+ আয়ন গঠন করে । SO42- উত্পন্ন Cu2+ এর সঙ্গে মিলিত হয়ে CuSO4 উত্পন্ন করে এবং দ্রবণে দ্রবীভূত হয়, কারণ ইলেকট্রন (ঋণাত্মক আধান) SO42- আয়নের চেয়ে কপার পরমাণু থেকে অধিকতর সহজে মুক্ত হয় । এই পদ্ধতিতে কপার ক্যাথোডে ধাতব কপার সঞ্চিত হয় এবং কপার অ্যানোড CuSO4 হিসাবে দ্রবণে দ্রবীভূত হয়ে কোশের দ্রবণের ঘনত্ব স্থির রাখে ।

    বিক্রিয়া: CuSO4⇌Cu2++SO2−4
    ক্যাথোডে: Cu2++2e⇌Cu↓

    অ্যানোডে: Cu−2e⇌Cu2+;Cu2++SO2−4⇌CuSO4
    এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না অ্যানোডের ও দ্রবণের কপার নিঃশেষিত হয় । অবশেষরূপে কোশে H+ আয়ন ও SO42- আয়ন অর্থাৎ, সালফিউরিক অ্যাসিড থাকে ।

    See less
    • 1
  8. এই সময় জীবের আয়তন অ আকার তাড়াতাড়ি বাড়ে। কোশের বিভাজন দ্রুত ঘটে এবং তার শুষ্ক ওজন তাড়াতাড়ি বাড়ে। তাই এই সময় কালকে মানুষের মুখ্য বৃদ্ধিকাল বলে।

    এই সময় জীবের আয়তন অ আকার তাড়াতাড়ি বাড়ে। কোশের বিভাজন দ্রুত ঘটে এবং তার শুষ্ক ওজন তাড়াতাড়ি বাড়ে। তাই এই সময় কালকে মানুষের মুখ্য বৃদ্ধিকাল বলে।

    See less
    • 0
  9. প্রত্যক্ষ প্রবাহ বা Direct current (DC) ।

    প্রত্যক্ষ প্রবাহ বা Direct current (DC) ।

    See less
    • 1